

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের পুঠিবনিয়া গ্রামে পুকুর খননের আড়ালে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি ছৈয়দ্দা ব’র নাতি শফিকুর রহমান ও লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
এলাকাবাসী জানান, পুকুর খননের কথা বলে গভীরভাবে মাটি কেটে বালু উত্তোলন করে তা ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। খননের ফলে জমির স্থিতিশীলতা দুর্বল হয়ে ভাঙন ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তারা।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে পুকুর খনন নিজেই অবৈধ নয়। তবে সেই খননের মাটি বা বালু যদি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি বা সরবরাহ করা হয়, তাহলে তা আর সাধারণ খনন থাকে না; বরং তা বালু উত্তোলন হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০১২) অনুযায়ী, নির্ধারিত স্থান ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বালু উত্তোলন বা পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের ধারা ৪ ও ৫ লঙ্ঘন করে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করলে ধারা ১৫ অনুযায়ী কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
অভিযুক্ত শফিকুর রহমান ও লুৎফর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমিটি বনবিভাগের নয়; এটি তার নিজ নামে খতিয়ানভুক্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি।
শারমিন সুলতানা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, কোনো ব্যক্তি বা চক্র বাণিজ্যিকভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি এ ধরনের অনিয়ম রোধে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিবেশ ও জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


পাঠকের মতামত